উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সপ্ন বাংলাদেশের

Mahmudullah_Test_century.jpg.jpeg

 

হার নয়। পারলে জিতে আসো, নয়ত অন্তত ড্র করে ফিরো। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে এমন ভাবনাই ছিল সবার। কিন্তু, টেস্টের ২য় দিনেই যে সবকিছু এত দ্রুত পাল্টে যাবে, তা হয়ত অতি উৎসাহী  সমর্থকরাও কল্পনা করেনি। কারন জয়ের ভাল সম্ভাবনা দেখিয়ে হেরে যাওয়াটাও যে বাংলাদেশ খুব কম পারেনা, তেমনটা নয়। তবে অতীতে যা কিছুই ঘটুক না কেন, শেষ টেস্টের ২য় দিন শেষে বাংলাদেশে যে প্রতিপক্ষের নাগালের বাইরেই আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

১ম দিনের ২৫৯ রানে ৫ উইকেট যাওয়ায়, ২য় দিনে একটা সম্মানজনক স্কোরই আশা করেছিলেন সবাই। অন্তত দুইটা সেশন খেলে ৩৫০-৩৮০ স্কোরবোর্ডে জমা পরলেই হয়। যা এই উইকেটে একটা চ্যলেঞ্জিং স্কোর ধরা হয়েছিল।

আগেরদিনের অপরাজিত সাকিব-মাহমুদুল্লাহ জুটি দিনের শুরুতেই দেখেশুনে খেলতে থাকে। সাকিব সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ব্যর্থ হন। ব্যক্তিগত ৮০ রানে তিনি সাজঘরে ফেরেন। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ তার কাজের কাজটিই করে আউট হয়েছেন। সর্বশেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হবার আগে টেস্টে তার ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ রান  এবং পাশাপাশি অন্য ব্যাটসম্যানদের দিয়েও একটি শক্ত ইনিংস এর ভিত গড়ে দেন। লিটন দাস অর্ধশতক (৫৪) রানে আউট হওয়ার পর মূলত, মাহমুদুল্লাহর ব্যাটিং দৃঢ়তায়-ই বাংলাদেশ ৫০৮ রানের বিশাল স্কোর গড়তে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে যতটা আনন্দ পাওয়া গেছে, তার থেকে বেশী মজা পাওয়া গেছে উইন্ডিজের ব্যাটিং দেখে। দিনশেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৭৫ রান, হাতে নেই ৫ উইকেট। ২৯ রানেই ৫ উইকেট খোয়া যাওয়ার পর তরুন উদীয়মান ব্যাটসম্যান হেট্মায়ার ৩২* ও ডওরিচ ১৭* তে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করে ক্যারিবিয়ানরা। শুরুতে আঘাত হানেন সাকিব- আল হাসান। স্কোরবোর্ডে কোন রান জমা হতে না দিয়েই বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান ব্র্যাথওয়েটকে। এরপরের গল্প শুধু সাকিব আর মিরাজময়। সাকিব ২টি ও মিরাজ ৩টি উইকেট নেন, যার সবগুলোই ছিল বোল্ড । টেস্ট ক্রিকেটে গত ১২৮ বছরে প্রথম ৫টি উইকেটের সবগুলোই বোল্ড হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

২য় দিন শেষে মিরপুর টেস্টে ক্যারিবীয়দের যা অবস্থা, তাতে জয় বা ড্র পরের হিসাব আপাতত ফলোঅন এড়ানোর চিন্তা করার শ্রেয়তর।

 

বায়েজীদ হোসেন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Top